দুশ্চিন্তা দূর করার সহজ উপায় কি?

সহজে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা দূর করার উপায় জেনে নিন:

আপনার মনের প্রশান্তির জন্য কোন এক নিরিবিলি জায়গায় একা বসে আছেন। আসলেই আপনি কি একা বসে আছেন? আপনি একা বসে থাকলেও আপনার নিজের অজান্তে হঠাৎ কোন এক দুশ্চিন্তা আপনাকে চেপে ধরে বসে আছে।

দুশ্চিন্তা দূর করার সহজ উপায় কি

তাহলে ভাবুন একা থেকেও দুশ্চিন্তা আপনার পিঁছু ছাড়ছে না। এই অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা দূর করার জন্য সঠিক সমাধান জেনে নিন।

প্রথমে নেতিবাচক দুশ্চিন্তা দূর করার উপায় খুজুন: 

যেকোন নেতিবাচক চিন্তা আসার কারণে আপনার হার্ট দুর্বল বা মানসিক জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে।

তাই খুব বেশি খারাপ পরিস্থিতি হওয়ার আগেই নিজের মানসিক পরিচর্যা করা উচিত। মানুষ যখন নেতিবাচক চিন্তার চক্রে আবদ্ধ হয়, ঠিক তখনই চিন্তাভাবনার প্রভাব পড়ে বিভিন্ন কাজের উপর।

সে কারণেই নেতিবাচক চিন্তার চক্রে আটকে গেলে এটির উপর কাজ করতে শুরু করে দেয়। আর ঠিক তখনই নিজের বিশ্বাসকে প্রভাবিত করার ফলে এই চক্রটি চলতে থাকে। 

দুশ্চিন্তা দূর করার সহজ উপায় কি

দীর্ঘ শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে ভুলবেন না:

যেকোন কাজের ক্ষেত্রে মানসিক চাপ বলে মনে হলে বা মাথায় দুশ্চিন্তা আসলে নিজের প্রতি মনোযোগী হন এবং কিছুক্ষণপর দীর্ঘ শ্বাস নিন যাতে অশান্ত মন পুরোপুরী শান্ত হয়ে যাবে।

এছাড়াও গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ যখন খুব বেশি চিন্তিত থাকার ফলে দীর্ঘ শ্বাস নিতেও ভুলে যায়। ঠিক এই সময় চোখ বন্ধ করে গুনে গুনে ৪ বার দীর্ঘ শ্বাস নিন এবং ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন। 

ইতিবাচক বিষয়ের দিকে মনোযোগ দিন:

নিজেকে চিন্তা মুক্ত রাখার জন্য শক্তিশালী অনুভব করতে ইতিবাচক কথা ও কাজের দিকে মনোযোগ দেন। যেমন- সব ঠিক বলে মনে হলে, সে সব কাজের দিকে মনোযোগ দিন।

অহেতুক চিন্তাধারা বিশ্বাস করবেন না:

মাথায় অহেতুক চিন্তা এলেই সেটাই সত্যি ভেবে নেওয়ার কোনো কারণ নেই। চিন্তাভাবনা ক্রমাগত নেতিবাচক হতে থাকলে নিজের মনকে প্রশ্ন করুন।

আপনি যে বিষয়ে ভাবছেন এমন সিদ্ধান্ত হওয়ার কোনো কারণ আছে কি-না তা সঠিকভাবে ভেবে দেখুন।

এছাড়াও, আপনি যেকোন ঘটনার খারাপ দিকটাই দেখছেন নাকি সমস্ত বিষয়টা নিয়ে ভাবছেন তা পুনরায় ভেবে দেখুন।

দুশ্চিন্তা দূর করার সহজ উপায় কি

নিয়মিত ব্যায়াম করার অভ্যাস করুন:

শরীর ও মন সুস্থ রাখতে ব্যায়ামের বিকল্প নেই। নিয়মিত ব্যায়াম করলে আমাদের মন ভালো থাকে এবং মানসিক দুশ্চিন্তা কমায়। এটি শরীরকেও শক্তিশালী রাখে। ভালো ঘুম হয়।

এছাড়াও স্বাস্থ্য রক্ষার্থে উচ্চ রক্তচাপ কমাতে, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগ সহ অন্যান্য রোগের ক্ষেত্রে ঝুঁকি কমায়।

বিভিন্ন ইতিবাচক দিক থাকা সত্ত্বেও মানুষ নিয়মিত ব্যায়াম করতে চায় না।

প্রতিদিন নিজের সাথে যুদ্ধ করতে হয়। আপনি কীভাবে এই যুদ্ধে জয়ী হতে পারেন তা খুঁজে বের করুন এবং প্রতিদিন ব্যায়াম করার মনোযোগ দিন।

নিজের মনকে নিয়ন্ত্রণ করুন:

আপনার খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ এবং ওজন কমান। আপনি সামনে যখন সুস্বাদু খাবার দেখেন তখন নিজের উপর আর নিয়ন্ত্রণ থাকে না।

সামনে পরীক্ষা হতে পারে, আপনাকে পড়তে বসতে হবে, কিন্তু আপনি আপনার প্রিয় ভিডিও গেম বা সিরিয়াল থেকে উঠতে পারছেন না।

এরকম অভ্যাসের কাছে ক্রমাগত হারানো একটি ছোট জিনিস মনে হয়। অথচ ধীরে ধীরে, আমরা সহজেই বুঝতে পারি যে এটি আমাদের জন্য কতটা ক্ষতি করে।

আবার, অনেকেরই আছে খুব বেশি চিন্তা করার কারণে নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর প্রবণতার সৃষ্টি হয়।

দুশ্চিন্তা দূর করার সহজ উপায় কি

যেভাবে ঘুমের সময় নির্ধারণ করবেন: 

১. ঘুমানোর আগে অবশ্যই ধুমপান বা ক্যাফিনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলুন

২. ঘুমোনোর ঠিক ২ ঘন্টা আগে রাতের খাবার খান।

৩. বই পড়ুন।

৪. টিভি বা মোবাইল ফোন ব্যবহার পরিত্যাগ করুন।

৫. অবশ্যই ঘুমের সময় আরামদায়ক বিছানা খুজুন।

৬. শরীর ক্লান্তি অনুভব করলে শুয়ে পড়ুন।

৭. ঘুমের জন্য নির্দিষ্ট টাইম টেবিল তৈরি করুন

৮. দিনের বেলায় বেশিক্ষণ ঘুমোবেন না

আনন্দদায়ক ক্রিয়াকলাপে নিযুক্ত হন:

আপনার আনন্দদায়ক হয় এমন কিছু সন্ধান করুন, যা আপনাকে শান্ত হতে সাহায্য করে।

যেমন গল্প ও কবিতা পড়া, শান্ত সঙ্গীত শোনা বা আপনার পছন্দের শখগুলিতে জড়িত হওয়া। এই কাজগুলোর জন্য নিয়মিত সময় নির্ধারণ করুন।

অন্যদের কাছে চিন্তাধারা শেয়ার করুন:

আপনার বিশ্বস্ত বন্ধু, পরিবারের সদস্য বা একটি সমর্থন গোষ্ঠীর সাথে চিন্তাধারা শেয়ার করুন। কখনও কখনও আপনার অস্বস্তিকর হওয়া সম্পর্কে কথা বলুন।

এরকম সমর্থন আপনাকে বোঝা কমিয়ে দিতে পারে এবং বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করতে পারে।

দুশ্চিন্তা দূর করার সহজ উপায় কি

স্ব-যত্নকে অগ্রাধিকার দিন:

শারীরিক, মানসিক সুস্থতার প্রচার করে এমন স্ব-যত্ন ক্রিয়াকলাপগুলিতে জড়িত হন। এর মধ্যে ভাল স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া।

এছাড়াও আপনাকে আনন্দ দেয় এমন কার্যকলাপে জড়িত হন।

থেরাপি বা কাউন্সেলিং বিবেচনা করুন:

দৈনন্দিন জীবনে যদি আপনার দুশ্চিন্তার প্রভাব ফেলতে থাকে, তাহলে এ বিষয়ে ডাক্তারের সাথে সঠিক পরামর্শ করুন।

জ্ঞানীয়-আচরণগত থেরাপি (সিবিটি), বিশেষত, নেতিবাচক চিন্তাভাবনা সংশোধন করে উত্তেজিত ব্যাধিগুলির চিকিৎসার ক্ষেত্রে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

মনে রাখবেন অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করার সাথে প্রত্যেকের অভিজ্ঞতা অনন্য। আপনার জন্য ভাল এমন কৌশল খুঁজে পেতে সময় লাগতে পারে।

আপনার দুশ্চিন্তা দূর করার জন্য ধৈর্যশীল এবং অবিচল থাকুন। এছাড়াও প্রয়োজনে এই সমস্যা সমাধানের জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিতে দ্বিধা করবেন না।

সূত্র:- Right News BD

bn_BDBengali